দীর্ঘ বিমানযাত্রা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরবর্তী গন্তব্যে যেতে হলে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় আকাশপথে কাটাতে হয়। দীর্ঘ সময় একই আসনে বসে থাকার কারণে ঘাড় ও কোমরে ব্যথা, পা অবশ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা কিংবা শরীরজুড়ে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তবে যাত্রার আগে কয়েকটি সহজ প্রস্তুতি নিলে দীর্ঘ ফ্লাইটও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

একই ভঙ্গিতে বসে থাকবেন না

দীর্ঘ সময় এক অবস্থায় বসে থাকা শরীরের জন্য অস্বস্তিকর। সুযোগ পেলেই আসন থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। তা সম্ভব না হলে পা সোজা করা, হাঁটু ও গোড়ালি নাড়ানো কিংবা বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ক্লান্তি কিছুটা কমে।

ঘুমকে গুরুত্ব দিন

দীর্ঘ ফ্লাইটের একটি অংশ ঘুমিয়ে কাটাতে পারলে যাত্রা অনেক সহজ মনে হয়। বিশেষ করে গন্তব্যে পৌঁছেই কাজ শুরু করতে হলে বা সামনে আরেকটি ফ্লাইট থাকলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

নেক পিলো হতে পারে কার্যকর সঙ্গী

বিমানে বসে ঘুমানোর সময় মাথা একদিকে হেলে যাওয়ার কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। একটি ভালো মানের নেক পিলো ঘাড়কে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয় এবং ঘুমকে আরামদায়ক করে। জানালার পাশের আসনে বসলে এর সুবিধা আরও বেশি পাওয়া যায়।

শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

বিমানের ইঞ্জিনের শব্দ, আশপাশের যাত্রীদের কথাবার্তা বা শিশুদের কান্না অনেক সময় বিশ্রামে বাধা সৃষ্টি করে। নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন বা সাধারণ ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করলে মনোযোগ ও ঘুম দুটোই সহজ হয়।

ঠান্ডার জন্য প্রস্তুত থাকুন

বিমানের কেবিনের তাপমাত্রা অনেক সময় বেশ কম থাকে। তাই হাতব্যাগে পাতলা জ্যাকেট, শাল বা হুডি রাখলে প্রয়োজনের সময় কাজে আসবে।

বিনোদনের ব্যবস্থা রাখুন

দীর্ঘ সময় আকাশে কাটানোর জন্য আগে থেকেই সিনেমা, সিরিজ, গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করে রাখা ভালো। যদিও অধিকাংশ দূরপাল্লার ফ্লাইটে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে, তবুও নিজের পছন্দের কনটেন্ট সঙ্গে থাকলে সময় দ্রুত কেটে যায়।

ট্রানজিটের কথা মাথায় রাখুন

অনেক আন্তর্জাতিক যাত্রায় দীর্ঘ ট্রানজিট থাকে। তাই হাতব্যাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার, টুথব্রাশ, অতিরিক্ত পোশাক, টিস্যু ও লিপ বাম রাখুন। এতে যাত্রাবিরতির সময় নিজেকে সতেজ রাখা সহজ হয়।

প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন

পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস, চার্জার, হেডফোন, ওষুধ বা পানির বোতল এমন জায়গায় রাখুন, যেন সহজেই বের করা যায়। এতে ফ্লাইট চলাকালে অযথা ঝামেলা কমবে।

হালকা নাশতা সঙ্গে রাখুন

বিমানে খাবার সরবরাহ করা হলেও তা সব সময় সবার পছন্দ নাও হতে পারে। খাবারের বিরতি দীর্ঘ হলে বাদাম, বিস্কুট বা অন্য কোনো শুকনো নাশতা কাজে আসতে পারে।

আসন বাছাইয়ে সচেতন হোন

জানালার পাশের আসন ঘুমানোর জন্য সুবিধাজনক হলেও যাদের ঘন ঘন ওঠানামার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য করিডোরের পাশের আসন বেশি উপযোগী। নিজের অভ্যাস অনুযায়ী আসন নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

অবতরণের আগে কাগজপত্র গুছিয়ে নিন

ফ্লাইট নামার আগে পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি একসঙ্গে গুছিয়ে রাখুন। এতে ইমিগ্রেশন বা ট্রানজিট প্রক্রিয়ায় সময় বাঁচবে।

প্রয়োজনে কেবিন ক্রুদের সহায়তা নিন

যাত্রাপথে কোনো অসুবিধা হলে কেবিন ক্রুদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। অতিরিক্ত পানি, কম্বল বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা দিতে পারেন।

দীর্ঘ ফ্লাইটকে পুরোপুরি আরামদায়ক করা সম্ভব না হলেও সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতা যাত্রাকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সামনে নতুন কোনো গন্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দীর্ঘ ট্রানজিট থাকলে এসব প্রস্তুতি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করতে সাহায্য করবে।